Summary
এই লেখায় আত্মমর্যাদার ধারণা বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আত্মমর্যাদা মানে 'নিজের প্রতি সম্মান'। এতে কিছু ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে:
- ঘটনা-১: নিতু কলেজের ছাত্রা, যিনি বাড়ির কাজে মাকে সাহায্য করে এবং সম্মানের সাথে কাজ করে। মা নিতুর আত্মমর্যাদকেই প্রশংসা করেন।
- ঘটনা-২: আজিজ, পা হারানো সত্ত্বেও, অধ্যবসায় করে এবং ভালো ফলাফল অর্জন করে। সে নিজের সক্ষমতাকে সম্মান করার গুরুত্ব বোঝে।
- ঘটনা-৩: তাপস, অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বিতর্ক এড়িয়ে চলে। সে বিশ্বাস করে, সম্মান দিলে অন্যেরও সম্মান প্রাপ্য।
এই ঘটনার মাধ্যমে আমরা শিখতে পারি যে:
- আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ দায়িত্ব পালন করে এবং ন্যায় কাজ করে।
- শারীরিক বা মানসিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও, নিজের সক্ষমতা ও নিজেকে সম্মান করে।
- অন্যের মতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে এবং গ্রহণযোগ্য আচরণের দিকে লক্ষ্য রাখে।
সামগ্রিকভাবে, আত্মমর্যাদা হলো নিজের এবং অন্যের প্রতি সম্মানশীলতা।
তোমরা হয়ত তোমাদের চারপাশে এ রকম কথাবার্তা শুনে থাকবে- 'করিম সাহেব একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ।' এই আত্মমর্যাদা শব্দটি দিয়ে আসলে কী বোঝায়? শব্দ ভেঙে যদি অর্থ বের করার চেষ্টা করি, তবে দেখা যায় 'আত্ম' অর্থ 'নিজ' আর 'মর্যাদা' অর্থ 'সম্মান'। তাহলে আত্মমর্যাদা বলতে কি 'নিজেদের প্রতি সম্মান'কে বোঝায়? এসো নিচের ঘটনাগুলো থেকে বোঝার চেষ্টা করি-
ঘটনা-১: নিতু কলেজে পড়ে। তার ভালো আচরণের জন্য সবাই তাকে খুব পছন্দ করে। সে বাড়ির সব কাজে মাকে সাহায্য করে। মা তাকে প্রায়ই বলেন, 'তোর আমাকে সাহায্য করতে হবে না। আমি নিজেই করব।' নিতু উত্তর দেয়, 'তোমরা সবাই আমাকে এত উৎসাহ দাও, আদর করো, পড়ালেখায় সাহায্য করো, তোমাদের সবার জন্য তো আমার কিছু করা উচিত। আমি জানি, কাজ করার মধ্যে লজ্জার কিছু নেই বরং এতে সম্মান বাড়ে'। নিতুর এ আত্মমর্যাদাবোধে মা খুবই খুশি হলেন, বললেন, 'এমন আত্মমর্যাদাবান মেয়েই আমাদের দরকার।'

ঘটনা-২: আজিজ মেধাবী ছাত্র। সে খুব ছোটোবেলায় এক দুর্ঘটনায় তার বাম পা হারায়। সে এখন ক্র্যাচ ব্যবহার করে চলাফেরা করে। স্কুলে সব পরীক্ষায় আজিজ প্রথম হয়। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সে এ+ পেয়েছে। নতুন স্কুলে এসে ভর্তি হলে সবাই তার সুন্দর আচরণে মুগ্ধ হলো। তার পরীক্ষার ফলাফলও খুব ভালো। ক্লাসের সবাই একদিন টিফিনের সময় আজিজকে জিজ্ঞেস করল, ওর যে পা নেই তাতে ওর মন খারাপ হয় কিনা। সে পড়ালেখায়ই বা এত ভালো করছে কেমন করে? আজিজ ওদের বলল- আমার পা নেই তাতে কি; আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব পরিশ্রম করি। বাড়িতে সবাই আমাকে খুব ভালোবাসে এবং যে কাজগুলো আমি করতে পারি না, সে কাজগুলোতে আমাকে সাহায্য করে। প্রথম দিকে আমার খুব মন খারাপ হতো, তবে এখন আমার নিজেকে অন্য সবার মতই মনে হয়।

ঘটনা-৩: তাপস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। সে কখনও কাউকে অসম্মান করে না, মন্দ কথাও বলে না। অন্যের সাথে মতের অমিল হলেও তর্ক করে না। সে বিশ্বাস করে, অন্য কারো চিন্তাধারা ভিন্ন হতেই পারে। একদিন ওর ক্লাসের সাগর বলেছিল, আনিস স্যারের পড়ানো ওর খুব ভালো লাগে। কিন্তু অনিক বলল, আনিস স্যার খুব তাড়াতাড়ি কথা বলেন, তাই ওর বুঝতে কষ্ট হয়। এই নিয়ে দুজনের যখন তর্ক-বিতর্ক শুরু হবার উপক্রম, তখন তাপস বলল, তোমরা দুজনেই নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছ এবং এটা করার অধিকারও তোমাদের আছে। তর্ক না করে তোমরা দুজন দুজনের মতামতকে শ্রদ্ধা করতে পারো, তাই না? আমি একটি বইয়ে পড়েছি- যাঁরা নিজেদের সম্মান করে তাঁরা অন্যদেরও সম্মান করে।
উপরের ঘটনাগুলো থেকে আমরা কী শিখতে পারি?
উপরের ঘটনাগুলো থেকে আমরা বুঝতে পারি, একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ-
- নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে: কোন ধরনের ন্যায় কাজ করতে লজ্জাবোধ করে না।
- নিজের কোন শারীরিক বা মানসিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নিজের ক্ষমতা ও সামর্থ্যকে সম্মান করে।
- অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে।
অনেকে মনে করেন, আত্মমর্যাদা হলো নিজের কাছে নিজের সম্মান ও মানুষ হিসেবে নিজের পরিচয় সম্পর্কে সচেতন থাকা। আবার কেউ মনে করেন, আত্মমর্যাদা হলো নিজের চারপাশ ও নিজের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সে অনুযায়ী আচরণ করা। অন্যায় কাজ করতে লজ্জাবোধ করা, মানুষ হিসেবে সকল মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য আচরণ করা, ভালো ও নতুন কিছু চিন্তা করা ইত্যাদি আত্মমর্যাদাবোধের পরিচয় বহন করে। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য রুচিবোধের প্রকাশও আত্মমর্যাদাবোধের পরিচয়।
দলগত কাজ চার-পাঁচজনের দল তৈরি করে তোমাদের অভিজ্ঞতা থেকে আত্মমর্যাদাবিষয়ক একটি ঘটনা বর্ণনা করো। |
Read more